সুইমিং পুলে সাঁতার শেখার সময় মেয়েদের প্রধান করণীয় হলো সঠিক ও আরামদায়ক পোষাক নির্বাচন, সুইমিং পুলে নামার আগে ও পরে পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মানা, প্রশিক্ষকের নির্দেশ পুরোপুরি অনুসরণ করা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক আরাম নিশ্চিত করা ।

নিচে
বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হলো:
১.
পোশাক ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতি
সাঁতারের
পোশাক (সুইমস্যুট): আরামদায়ক ও মানানসই সাঁতারের পোশাক
(যেমন: বুর্কিনি অথব ফুল-বডি সুইমস্যুট) নির্বাচন করুন।
সুইমিং
ক্যাপ ও গগলস: চুলের সুরক্ষার জন্য অবশ্যই সুইমিং ক্যাপ ব্যবহার করুন। চোখে ক্লোরিন বা পানির ঝাপটা থেকে বাঁচতে গগলস পরা জরুরি।
স্যানিটারি
সতর্কতা: পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে পুলে সাঁতার কাটা হতে
বিরত থাকুন ।
২.
সুরক্ষাবিধি ও স্বাস্থ্যবিধি
ওয়াটারপ্রুফ
সানস্ক্রিন: বিশেষ করে আউটডোর পুলে সাঁতার শেখার আগে
ত্বকের সুরক্ষায় ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
গোসল
করা: পুলে নামার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে গোসল
করুন এবং পুল থেকে উঠে আসার পরও একইভাবে গোসল করে শরীর থেকে ক্লোরিনযুক্ত পানি
ধুয়ে ফেলুন।
কানের
সুরক্ষা: কানে পানি ঢুকে ইনফেকশন এড়াতে চাইলে সুইমিং ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করতে পারেন।
৩.
সাঁতার শেখার সময় করণীয়
ভয়
দূর করা: সাঁতারের শুরুতে পানিতে ভেসে থাকার (Floating)
অভ্যাস করুন। নারীদের শরীরের গঠন পানিতে
সহজে ভাসতে সাহায্য করে, তাই আতঙ্কিত না হয়ে রিল্যাক্স থাকুন।
শ্বাস
নিয়ন্ত্রণ: নাক-মুখে পানি ঢোকা রোধ করতে মুখ দিয়ে
শ্বাস নেওয়া ও পানির নিচে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ার (বুদবুদ তৈরি করা) অনুশীলন করুন।
ধৈর্য
ও ধারাবাহিকতা: প্রথম দিকে ১৫-২০ মিনিট করে প্র্যাকটিস
করুন। প্রতিদিন নিয়ম করে সময় দিলে খুব দ্রুত হাত ও পায়ের সঠিক মুভমেন্ট আয়ত্ত করা
সম্ভব।
৪.
পুলের নিয়মাবলি (Etiquette)
অগভীর
স্থানে অনুশীলন: সাঁতার শেখার সময় শুরুতেই গভীর জলে না
নেমে পুলের কিনারা ঘেঁষে (অগভীর অংশে) প্র্যাকটিস করুন।
পুল
ডেক সতর্কতা: পুলের চারপাশের মেঝে পিচ্ছিল থাকে,
তাই দৌড়াদৌড়ি না করে সাবধানে হাঁটুন।
ঢাকা শহরে যারা
সাঁতার শিখতে আগ্রহী, তারা সাধারণত নারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
রয়েছে এমন জায়গাগুলো বেছে নিতে পারেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ
মহিলা ক্রীড়া সংস্থা (ধানমন্ডি), মিরপুর
জাতীয় সুইমিংপুল কমপ্লেক্স, কিংবা অফিসার্স
ক্লাব-এ
নারীদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাচ বা নারী প্রশিক্ষক থাকেন।
সাঁতারের জন্যে পোশাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, ভুল পোশাকের কারণে একজন সাঁতারুর জীবন বিপদাপন্ন হতে পারে।
*সতর্ক থাকুন এই ৫ বিষয়ে:*
১. পকেট আছে এমন পোশাক পরা যাবে না।
২. সাঁতারের সময় টাইট পোশাক পরুন, ঢোলা পোশাক এড়িয়ে চলুন।
৩. হালকা ও কুইক-ড্রাই পোশাক পরুন। এমন পোশাক পরবেন না যা পানিতে
ভিজে ভারি হয়ে যায়; যেমন জিনস, সুতির গেঞ্জি/শর্টস।
৪. সাঁতারের সময় হাত-পা নাড়াতে বাঁধা তৈরি করে বা অস্বস্তি
হয় এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন।
৫. মানসম্পন্ন প্রকৃত সাঁতার পোশাক পরুন। নতুন সাঁতার পোশাক
পরে গভীর জলে সাঁতার কাটবেন না। আগে অগভীর জলে ট্রাই করে সব দেখে পরখ করে নিন।
সাঁতার কাটায়
ঝুঁকি কাদের
সাধারণভাবে
সাঁতার না জেনে বা বাচ্চাদের হঠাৎ করে একা সাঁতার কাটা বা শিখতে যাওয়া উচিত নয়, এতে প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
কানের ইনফেকশন
থাকলে বা অন্যান্য জটিল শারীরিক অসুস্থতা থাকলে সাঁতার কাটায় ঝুঁকি রয়েছে।
গর্ভকালীন
অবস্থায় প্রথম ও শেষ ৩ মাস সাঁতার কাটা উচিত নয়।
কারো পানির
প্রতি ভীতি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা আছে, তাদেরও সাঁতার কাটা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সাঁতার কাটায় যা
মনে রাখা জরুরি:
কিছু বিষয় খেয়াল
রেখে সাঁতার কাটার অভ্যাস গড়ে তুললে সাঁতার থেকে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া সম্ভব।
১. সাধারণত সব
মানুষেরই সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট করে সপ্তাহে ৫ দিন মাঝারি
কষ্টের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা উচিত। সেই হিসেবে সাঁতারও একই পরিমাণ সময়
করা যেতে পারে।
২. একেবারে ছোট
বাচ্চা যেমন ৬ মাসের বাচ্চাকেও বাচ্চাদের বাথ-টাবে ধরে রেখে সাঁতার কাটানো যেতে
পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কুসুম বা আরামদায়ক গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।
৩. তবে
স্বাধীনভাবে সাঁতার কাটার দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে সাঁতার শেখাতে চাইলে ৪ থেকে ৫
বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো ও নিরাপদ।
৪. সাধারণত
ভরপেট খেয়ে কিংবা একদম খালি পেট যেমন- রোজা অবস্থায় সাঁতার কাটা উচিত নয়।
৫. যারা ইনসুলিন
ব্যবহার করেন তারাও সাঁতারের আগে রক্তে গ্লুকোজ মেপে নেবেন।
৬. সাঁতারের পর
কিছুক্ষণ সময় নিয়ে স্বাভাবিক খাবার খাবেন।
৭. যার যার
সুবিধা ও সুযোগ অনুযায়ী পুকুর বা সুইমিং পুল যেকোনো জায়গায় সাঁতার কাটা যাবে।
সাধারণত সুইমিং পুলে পানির মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। খেয়াল
রাখতে হবে যাতে এইসব কেমিক্যাল নিরাপদ পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। এই কেমিক্যাল থেকে
বাঁচার জন্য সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার পর ভালোভাবে সাবান ও শ্যাম্পু ব্যবহার করে
গোসল করে নেওয়া উচিত।

